কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৮:৫০ AM
কন্টেন্ট: পাতা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের সাফল্য ও অর্জনসমূহ
(সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)
‘Quintessence of Nazrul’ (নজরুল নির্যাস)। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রথমবারের মত নজরুল সাহিত্য ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে নজরুল সাহিত্যের বিশ্বযাত্রা শুরু হল। ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের ফলে নজরুল এখন বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হতে শুরু করবে।
প্রথমবারের মতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট সদস্যপদ রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে । ইনস্টিটিউটের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে সদস্যগণ নজরুল চর্চা সমৃদ্ধ করবেন। সদস্যগণ ইনস্টিটিউটের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে ‘জাতীয় কবি’র জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে তাদের অংশীদারিত্ব সৃষ্টি হবে এবং নজরুল চর্চা বেগবান হবে ।
‘আপোসহীন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নজরুল’ প্রাসঙ্গিক করে- ‘ডিপ্লমা ইন জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ’ বিষয়ে এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ সময়ের সাংবাদিকরা ৩০ ক্রেডিটের এই কোর্সটি করে নজরুলের মত নৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং সাহসী সাংবাদিক হয়ে উঠবেন ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটে ‘পেনশন’ চালুর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে । এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা অবসর কালে শুধু গ্রাচুয়েটি পেতেন, কিন্তু কোন পেনশন পেতেন না । ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম বারের মত পেনশন চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।
জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতির পর কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তন হয়েছে, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট’ করা হয়েছে ।
ইনস্টিটিউটের সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্য প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহে নতুন পাঠ্যক্রম ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে ।
ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগারের সময় বিকেল ৫টা থেকে বৃদ্ধি করে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা শহরে এখন এটাই একমাত্র লাইব্রেরি যা পাঠকদের জন্য রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে ।
ইনস্টিটিউটের জরাজীর্ণ মিলনায়তন সংস্কার করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এটি এখন ইনস্টিটিউটের নিজস্ব আয়ের একটি খাতে পরিণত হয়েছে ।
নজরুল চেতনা দীপ্ত ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে প্রাসঙ্গিক করে দেশব্যাপী ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আমাদের নজরুল’ শীর্ষক সিরিজ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে । এটি চলমান আছে ।
সারা দেশব্যাপী স্কুল, কলেজ, ও মাদ্রাসায় রচনা, হামদ-নাত, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হচ্ছে ।
নতুন করে নজরুল সংগীত স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের কমিটি গঠন করা হয়েছে । এছাড়াও জার্নাল ও গবেষণার পাণ্ডুলিপি বাছাই, প্রকাশনা ও রিভিউ কমিটির পুনর্গঠন করা হয়েছে ।
প্রথমবারের মতো নজরুলের ‘রক অ্যালবাম’ এবং ‘রক কনসার্ট’ আয়োজন করা হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের তারুণ্যের মাঝে নজরুল চেতনার সমৃদ্ধি ঘটাচ্ছে ।
প্রতি বছর ২৫শে মে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ‘নজরুল পুরস্কার’ প্রদান এবং পুরস্কার হিসেবে রৌপ্য পদক প্রবর্তন করা হয়েছে। ।
লাইব্রেরি আধুনিকায়ন ও অটোমশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।
ইরান সরকার নজরুল রচনা সমগ্র ফারসি ভাষায় অনুবাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত এই বিষয়ে ব্যপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
নজরুলকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পৃথিবীর দেশে দেশে নজরুল সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে । এই লক্ষ্যে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জাপানে নজরুল কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে ।
প্রথমবারের মত নজরুল ইনস্টিটিউটে ‘নজরুল নাট্য উৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে । এখন থেকে নিয়মিত নজরুলের নাটকগুলোর মঞ্চায়ন হবে । পরিকল্পনায় আছে সারা দেশ থেকে গ্রুপ থিয়েটারগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে মাসব্যাপী নাট্য উৎসব করার ।
দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাঝে নজরুল চর্চা বৃদ্ধি করার জন্য পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে । ইতিমধ্যে আমরা নেত্রকোনার বিরিশিরিতে গারো ও হাজংদের নিয়ে একটা চমৎকার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছি। পর্যায়ক্রমে আমরা দেশের প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কাছে যাব ।
প্রথমবারের মতো একাডেমিক ক্যালেন্ডার চালু করা হয়েছে ।
ফরাসি ভাষায় নজরুল সাহিত্যকর্ম অনুবাদের জন্য ঢাকার ফরাসি কালচারাল সেন্টার এলিয়ান্স ফ্রাসেস-এর প্রধানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধন্ত হয়েছে ।
নজরুল সঙ্গীতের সুর ও বাণী অবিকৃতভাবে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও প্রসারের জন্য স্টাফ নোটেশন প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।